আলেফ হোল্ডিংয়ের দায়িত্বে বাংলাদেশের ইমরান খান

 

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরান খান এবার ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক অংশীদার আলেফ হোল্ডিংয়ের হাল ধরেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

১০০ কোটি ডলারের রাজস্ব পার করতে যাওয়া আলেফ হোল্ডিংকে আরও এগিয়ে নিতে চান ইমরান খান। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে পৃথিবীর বৃহত্তম দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা এবং স্ন্যাপ ইনকেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আলেফ হোল্ডিংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আলেফ হোল্ডিং হচ্ছে পৃথিবীর বৃহৎ ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক অংশীদার। প্রযুক্তি খাতের খ্যাতনামা বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা ইমরান খান এই প্রতিষ্ঠানের বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। তিনি আলেফ হোল্ডিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও গ্যাস্টন টারাটুটার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা ইমরান খান ছোটবেলায় একজন তুখোড় তার্কিক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখানে ২০০০ সালে ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যানিয়েলস কলেজ অব বিজনেস থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তিনি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম দুই প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আলিবাবা ও স্ন্যাপ ইনকের নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠানে কাজ করা নিয়ে তাঁর বেশ সুখ্যাতি রয়েছে।

আলেফ আশা করছে, চলতি বছরে তারা ১০০ কোটি ডলার আয় করবে, যা বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার সমান। নতুন বাজারে প্রবেশ ও অতিরিক্ত অংশীদার যুক্ত করে এবং বহুমুখী সেবা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে এই মাইলফলক অর্জনে সাহায্য করবেন ইমরান খান।

ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, স্ন্যাপচ্যাট, টুইচ ও টিকটকের মতো বৃহৎ ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে যুক্ত করে দেয় আলেফ। এসব বিজ্ঞাপনদাতার মধ্যে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড এবং উঠতি উদ্যোক্তাও রয়েছে। আলেপ পৃথিবীব্যাপী ৭০টির বেশি বাজারে ডিজিটাল মিডিয়ার দেওয়া সুবিধাগুলো প্রতিটি কোনায় পৌঁছে দেওয়াটা নিশ্চিত করে আসছে।

আলেফ হোল্ডিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গ্যাস্টন টারাটুটা বলেন, ‘ইমরান বিপুল পরিমাণ অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসেছেন। আমাদের যাত্রার পরবর্তী ধাপের জন্য তাঁর উদ্যোক্তা-চিন্তা ও বৈশ্বিক প্রযুক্তিবিষয়ক অভিজ্ঞতার সমন্বয় সম্পূর্ণ যথাযথ। ২০০৫ সালে মাত্র ৫ হাজার ডলার নিয়ে আমি এই ব্যবসা শুরু করেছি। আর আজ আমরা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের রাজস্ব নিয়ে বছর শেষ করার দিকে এগোচ্ছি। আলেফে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সুযোগের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং তা অর্জনে ইমরান মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন।’

আলেফ হোল্ডিংয়ের নতুন চেয়ারম্যান ইমরান খান বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে গ্যাস্টন টারাটুটা স্ন্যাপের সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি চুক্তি করার সময় তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। তখন থেকেই আমি এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রেখে আসছি। কারণ, আলেফের ব্যবসার ধরনটি অনন্য। এই প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক অবকাঠামোটি আন্তরিকতা ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সাহায্যে জোরদার হয়েছে। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এমনভাবে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটায়, যা এই ক্ষেত্রে আর কোনো প্রতিষ্ঠান পারে না।’ ইমরান খান আর বলেন, ‘তারা যেসব প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং যে বাজারেই প্রবেশ করে, সেখানকার বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর তাদের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আর এটি এমন একটি মডেল, যেটির প্রচুর উন্নতি করার সুযোগ আছে।’

আলেফ একটি বৃহৎ বৈশ্বিক ডিজিটাল মিডিয়া অংশীদার। এটি পৃথিবীজুড়ে ৭০টির বেশি বাজারে বৃহত্তম ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। বিজ্ঞাপনদাতাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগের সর্বাধিক কার্যকরী মূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতে সাহায্য করে আলেফ। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, ডিজিটাল অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাজার সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকার সুবাদে এই ইকোসিস্টেমটি তৈরি হয়। ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের ক্রেতাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার ব্যাপারে কাজ করে চলেছে আলেফের বিভিন্ন দল।

 

Arrow