কপিরাইটিং এর ধরন এবং বিস্তারিত বর্ণনা

বিভিন্ন ভাবে কপিরাইটিং এর বিষয়টি আমাদের সামনে এসে থাকে। যেমন- ভিডিও স্ক্রিপ্ট, ব্লগ পোস্ট, ফিজিক্যাল প্যাম্পপ্লেট, ইত্যাদি।

এক জন বিজনেস ওনার হিসেবে কপিরাইটিং এর বিষয়ে আপনার কিছুটা ধারনা থাকা ভাল। কারণ এখন বিভিন্ন প্রকারের কপিরাইটিং হয়ে থাকে। আর আপনি যাকে হায়ার করছেন, সেকি আপনার চাহিদা অনুযায়ী কাজ সরবরাহ করতে পারছে কিনা সেটি বুঝতে, কপিরাইটিং বিষয়ে জানা দরকার।

কপিরাইটিং এর ধরন এবং বিস্তারিত বর্ণন

আসুন কয়েক ধরনের কপিরাইটিং এর সাথে পরিচিত হই:

  • ১. মার্কেটিং কপিরাইটিং
  • ২. সোশ্যাল মিডিয়া কপিরাইটিং
  • ৩. ব্র্যান্ড কপিরাইটিং
  • ৪. ডিরেক্ট রেসপন্স কপিরাইটিং
  • ৫. টেকনিক্যাল কপিরাইটিং
  • ৬. পাবলিক রিলেশন কপিরাইটিং
  • ৭. থট লিডারশীপ কপিরাইটিং
  • ৮. এসইও কপিরাইটিং
  • ৯. ই-মেইল কপিরাইটিং

আসুন সংক্ষিপ্ত ধারনা নেওয়ার চেষ্টা করি এগুলোর ব্যাপারে:

১. মার্কেটিং কপিরাইটিং

  • - অনলাইন ডিসপ্লে
  • - ইউটিউব ভিডিও
  • - রেডিও কর্মাশিয়াল
  • - টিভি কর্মাশিয়াল
  • - ফ্লায়ার, ইত্যাদি।

২. সোশ্যাল মিডিয়া কপিরাইটিং

সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিয়েন্সের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যে কপিরাইটিং করা হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া কপিরাইটিং বলে। এই ধরনের কপিরাইটিং এ ফান এবং ক্যাজুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন-

  • - ইমোজি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • - ইনফর্মাল টোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • - সংক্ষিপ্ত কপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৩. ব্র্যান্ড কপিরাইটিং

ব্র্যান্ড আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসকে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই ব্র্যান্ড কপিরাইটিং এ ব্র্যান্ডের লোগো, ব্র্যান্ড ইমেজ, জিংগেল, আপকামিং ইভেন্ট ইত্যাদিকে সামনে রেখে ব্র্যান্ড কপিরাইটিং করা হয়ে থাকে। এজন্য –

  • - অডিয়েন্স সার্ভে করা যেতে পারে।
  • - ফোকাস গ্রুপের উপর নজর দেওয়া যেতে পারে।
  • - এ/বি টেস্টিং করা যেতে পারে।

৪. ডিরেক্ট রেসপন্স কপিরাইটিং

এর মাধ্যমে যে কোন ধরনের ক্রেতা বা অডিয়েন্সকে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করা হয়, যেমন-

  • - কোন এডে ক্লিক করার পর ল্যান্ডিং পেইজ চলে আসে।
  • - ওপেন-ইন্ডেড ইমেইল।
  • - পপ-আপ।
  • - লিমিটেড টাইম অফার, ইত্যাদি।

৫. টেকনিক্যাল কপিরাইটিং

টেকনিক্যাল জিনিসপত্র বা টেকনোলজিক্যাল জিনিসপত্র বিক্রির জন্য যে কপিরাইটিং করা হয়। টেকনিক্যাল কপিরাইটিং এ প্রথমে ব্যাখ্যা করা হয় এই জিনিসটা কি, কিভাবে এটি কাজ করে, কেন কাস্টমারদের এটি কেনা উচিৎ, ইত্যাদি।

৬. পাবলিক রিলেশন কপিরাইটিং

এই ধরনের কপিরাইটিং খুব কাঠামোবদ্ধভাবে এবং জার্নালিস্টিক ওয়েতে প্রচার করা হয়ে থাকে। এটা সাধারণ কোন প্রতিষ্ঠানের পাবলিক রিলেশন স্পেশালিস্টরা লিখে থাকেন।সাধারণত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কোন ইভেন্ট বা অনুষ্ঠান সম্পর্কে কপিরাইটিং করে সেটি বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রচার করা হয়ে থাকে। এছাড়া কোম্পানির পাবলিক রিলেশন নিউজ লেটারেও এই ধরনের লেখা পাওয়া যায়। যেমন- কোম্পানির মাসিক নিউজ লেটার।

৭. থট লিডারশীপ কপিরাইটিং

এটি বিভিন্ন ফরম্যাটে লেখা হয়ে থাকে। কিন্তু এটি লিখে থাকেন ইন্ডাষ্ট্রির বিখ্যাত বা খ্যাতনামা কেউ। যেমন- হেলথ ইন্ডাষ্ট্রির কোন ইন্ফুয়েন্সার যদি কোন আর্টিকেল লেখেন তাহলে সেটি থট লিডিরশীপ কপিরাইটিং।

৮.এসইও কপিরাইটিং

যে কোন কপিতে কিওয়ার্ড এবং ফ্রেজ অপটিমাইজ করার মাধ্যমে যে কপিরাইটিং করা হয়ে থাকে সেটি এসইও কপিরাইটিং। সার্চ ইঞ্জিনে র্যা ঙ্কিং করা এবং পাঠক যাতে দ্রুত আর্টিকেলটি খুঁজে পেতে পারে, তার উপযোগী করে এসইও কপিরাইটিং করা হয়।

৯. ই-মেইল কপিরাইটিং

টার্গেট অডিয়েন্সদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বিশেষ টেকনিকে যে ইমেইল লেকা হয় তাকে ই-মেইল কপিরাইটিং বলে।যেমন এখানে-

  • - চমৎকার একটি সাবজেক্ট লাইন থাকে ।
  • - পুরো লেখার সামারি প্রথমেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
  • - একশন নেওয়ার জন্য কল-টু-একশন থাকে। ইত্যাদি।

আর যে কোন ধরনের কপিরাইটিং এর জন্য দরকার:

  • ক) অডিয়েন্সদের প্রতি সহমোর্মিতা।
  • খ) রিসার্স ভিত্তিক রাইটিং।
  • গ) সমালোচনা সহ্য করা বা টেককেয়ার করা।
  • ঘ) একই জিনিস সুন্দরভাবে, সংক্ষেপে, আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা।
  • ঙ) গ্রামাটিক্যাল নলেজ থাকা।
  • চ) প্রতিদিনই কপিরাইটিং এর চর্চা চালিয়ে যাওয়া।

পরিশেষে বলা যায়, কপিরাইটিং এর জ্ঞান আপনাকে অন্য সব মার্কেটারদের থেকে পৃথক করবে এবং মুনাফা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
তাই আসুন, কপিরাইটিং চর্চা করি, লাভের অংক বাড়িয়ে তুলি।

লিখেছেন ঃ মোঃ জাহিদুর রহমান

Arrow